
কসবা প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় যোগদানের মাত্র এক মাসের মধ্যেই গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। গত ১২ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই তিনি জড়িয়ে পড়েছেন নানা বিতর্কে। অভিযোগ রয়েছে,
আইনশৃঙ্খলার উন্নতি তো দূরের কথা, খোদ ওসির ছত্রছায়ায় থানা এলাকাটি এখন মাদক কারবারিদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
মাদক সাম্রাজ্যের নেপথ্যে পুলিশি যোগসাজশ
অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবার চিহ্নিত মাদক সম্রাট সারোয়ার আলমের সাথে ওসির গভীর সখ্যতা গড়ে উঠেছে। আদ্রা গ্রামের শহীদ ভূঁইয়ার ছেলে সারোয়ার আলম প্রকাশ্যে দম্ভ করে বলে বেড়ান যে, পুলিশ তাকে ছোঁবে না।
কারণ, কসবা থানার ওসি আব্দুল কাদেরকে তিনি মাসিক ২০ লক্ষ টাকা মাসোহারা দেন। বিনিময়ে ওসি তাকে নির্বিঘ্নে মাদক বাণিজ্যের সুযোগ করে দেন এবং আইনি সুরক্ষা প্রদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওসির প্রত্যক্ষ মদদে তার নিজ অফিসটিই এখন কার্যত মাদক কারবারিদের 'আদালতে' রূপ নিয়েছে। সেখানে বসেই চলে রফা-দফা। এই সিন্ডিকেটে ওসির সাথে এসআই পুলিশ সদস্যদের নামও উঠে এসেছে।যেভাবে চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য
মাদক পাচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে অভিনব কৌশল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিনাউটি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রবিন চৌধুরীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চৌধুরী মার্কেট মাঠ থেকে প্রকাশ্যে কাভার্ড ভ্যানে করে মাদক পরিবহন করা হয়। এই সিন্ডিকেটের আরেক মূল হোতা অনন্তপুর গ্রামের গনি মিয়ার ছেলে জিয়া।
জিয়া নিজের মুখে স্বীকার করেছেন যে, তিনি মাদক সম্রাট সারোয়ার আলমের ব্যবসায়িক পার্টনার।
চৌধুরী মার্কেটের গোডাউন থেকে তারা প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করেন। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় ‘রক্ষক’ হিসেবে কাজ করছেন থানার বড়বাবু ওসি আব্দুল কাদের।
মিথ্যা মামলায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি একদিকে মাদক কারবারিদের সাথে ওসির সখ্যতা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর চলছে স্টিম রোলার।
অভিযোগ উঠেছে, ওসির অন্যায্য আবদার না মানলে বা তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলেই সাধারণ নাগরিকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে কসবা থানার ওসি আব্দুল কাদের ও এসআই পদবীর কিছু অসাধু পুলিশের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
চেয়ারম্যান: মিঠু মিয়া, ব্যবস্থাপনাপরিচালক: দ্বীন ইসলাম , বার্তা সম্পাদক: ফয়সাল সিকদার
তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি