
বিশেষ প্রতিবেদন: তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি
কুমিল্লা: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর এলাকায় এক আতঙ্কের নাম মোঃ জিলানী খান (৩২)। লিয়াকত আলীর এই পুত্র দৃশ্যত 'জিলানী পরিবহন' ও 'মৎস্য আড়ৎ'-এর মালিক হলেও তার আড়ালে গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী মাদকের নেটওয়ার্ক এবং সাইবার অপরাধের আখড়া। তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, মাদক সম্রাট জিলানী খান শুধু আইন ভাঙতেই পারদর্শী নন, বরং আইনকে নিজের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সংবাদকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের কণ্ঠরোধ করতেও সিদ্ধহস্ত।
নারী কেলেঙ্কারি ও হাতেনাতে আটক
ঘটনার সূত্রপাত হয় কিছুদিন আগে, যখন মাধবপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জিলানী খানকে এক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে। গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং আইনি সহায়তা নিতে তারা স্থানীয় ইউপি মেম্বার মিঠু মিয়াকে খবর দেন। একইসাথে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নির্ভীক সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম জিলানীর এই অপকর্মের সংবাদ প্রচার করেন, যা মাদক সম্রাট জিলানীর ইগোতে আঘাত হানে।
প্রতিশোধের নীলনকশা: ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা
সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই জিলানী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। নিজের অপরাধ ঢাকতে সে বেছে নেয় প্রতিহিংসার পথ। গত কয়েকদিন আগে জিলানী তার অনুসারী ও ভাড়াটিয়া প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে নিয়ে সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম ও মেম্বার মিঠু মিয়ার ওপর চড়াও হয়। সেখানে নাটকীয় কায়দায় তাদের আটক করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পরবর্তীতে নিজের অপরাধ আড়াল করতে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে একটি সাজানো 'চাঁদাবাজি' মামলা দায়ের করে। এই ঘটনাটিকে স্থানীয়রা 'চোরের মায়ের বড় গলা' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ডিজিটাল সন্ত্রাস: মেম্বারের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি
বর্তমানে জিলানী তার ক্ষতি করার ধরন পাল্টিয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সে এখন তথ্যপ্রযুক্তিকে অপব্যবহার করছে। বর্তমান ইউপি মেম্বারের ছবি এবং নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে সেখান থেকে একের পর এক মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দিয়ে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—জনপ্রতিনিধির সামাজিক মর্যাদা ধূলিসাৎ করা এবং এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করা।
থানার ভূমিকা ও মাদকের রামরাজত্ব
সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, জিলানী প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষকে এমনকি সাংবাদিক দ্বীন ইসলামকেও ফোনে পুনরায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে আসছে। ভুক্তভোগীরা জানান, এই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বারবার জানানো সত্ত্বেও তারা রহস্যজনকভাবে নীরব। অভিযোগ উঠেছে, ব্রাহ্মণপাড়া থানার কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় জিলানী তার মাদকের কারবার নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের এই নির্লিপ্ততা জিলানীকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
তালাশ ক্রাইম দৃষ্টির প্রশ্ন
একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী কীভাবে একজন সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার সাহস পায়?
ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে অপপ্রচার চালানো সত্ত্বেও কেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
পুলিশের নাকের ডগায় বসে জিলানী পরিবহন ও মাছের আড়তের আড়ালে মাদকের কারবার চললেও প্রশাসন কেন নির্বিকার?
ব্রাহ্মণপাড়ার সচেতন নাগরিক সমাজ এই 'মাদক সম্রাট' ও 'সাইবার অপরাধী' জিলানীর দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
(পর্ব-১)
বিস্তারিত আসছে আগামী পর্বে...
চোখ রাখুন ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ এর পর্দায়...
চেয়ারম্যান: মিঠু মিয়া, ব্যবস্থাপনাপরিচালক: দ্বীন ইসলাম , বার্তা সম্পাদক: ফয়সাল সিকদার
তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি