স্টাফ রিপোর্টার,আখাউড়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোসলেম মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও মোটা অংকের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে । এই ঘটনায় এলাকার চিহ্নিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নাম উঠে এসেছে যারা দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে জমি জবরদখল ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে বলে পুলিশি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগ ও পুলিশি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে একটি গ্রাম্য শালিসে ১নং বিবাদী মো: সফিকুল ইসলাম মুধা উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে মোসলেম মিয়ার ওপর ১২,০০,০০০ (বার লক্ষ) টাকা জরিমানার এক অন্যায় রায় চাপিয়ে দেয় । ভুক্তভোগী এই বিশাল অংকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয় ।
হামলার বিবরণ: গত ২০শে জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের নয়নমুড়া গ্রামে মোসলেম মিয়ার বসতবাড়ির সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে । মামলার আরজি অনুযায়ী, ১নং বিবাদী সফিকুল ইসলাম মুধা মোসলেম মিয়ার গলায় ‘দা’ ঠেকিয়ে এবং ২নং বিবাদী মো: বাবুল মিয়া তার বুকে লোহার রড চেপে ধরে পুনরায় ১২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে [৩]। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামীরা তাকে লোহার রড ও দায়ের উল্টো পাশ দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আখাউড়া উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় ।
বিবাদীগণের অপরাধমূলক প্রোফাইল: তদন্তে জানা গেছে, ২নং বিবাদী মো: বাবুল মিয়া ওরফে ‘পিচ্ছি বাবুল’ এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি । সাম্প্রতিক এক অভিযানে তাকে ৪০০০ পিস ইয়াবাসহ আখাউড়া থানা পুলিশ গ্রেফতার করে, যার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশি নথিতে তাকে একজন ‘পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্ত এই আসামীরা সাবেক মেয়র কাজলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তবে সাবেক মেয়রের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আমাদের হাতে থাকা সরকারি নথিতে সরাসরি উল্লেখ নেই।
আইনি অবস্থা: বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে । পুলিশি তদন্তে বাদীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং ভুক্তভোগীকে আইনি সুরক্ষা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন