মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ মানুষকে ধরে নিয়ে থানায় নিজের রুমে চকবেদে নির্যাতন করার মতো ভয়ংকর অপরাধের সাথে জড়িত এই ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুল কাদের মুখবর্তী দাড়িকে পুঁজি করে জামায়াতের নাম ভাঙ্গিয়ে একের পর এক দুর্নীতি অনিয়ম রাত ৪ টা মাইনাস ও ঘুমন্ত মানুষকে ডেকে এনে ফাঁসানো হয়েছে বলে মাদক মামলায় ওসি আব্দুল কাদের এমনই অভিযোগ করছে ওসি আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে
কেউ নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেই দেশে আইনের দৃষ্টিতেও নির্দোষ হয়ে যাবে এমন নয় আসলে কি অপরাধে সেটা তথ্য প্রমান বিশ্লেষণ করেআদালতে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত দিতে পারেন আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই জেলা ও দায়রা জজ আদালত,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
স্থান ও সময়ের রহস্যময় গরমিল:সত্য আসলে কোথায় লুকিয়ে থাকে? পুলিশের নথির পাতায়, নাকি সিসিটিভির ফ্রেমে?
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলা জন্ম দিয়েছে এক বিশাল রহস্যের। কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান—মহাসড়ক থেকে পিকআপ ভ্যান ভর্তি মাদকসহ আটক এক ব্যক্তি। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ঠিক যেন এর উল্টো পিঠ।
যাকে আসামি করা হয়েছে, তিনি একজন সৌদি প্রবাসী। মামলার এজাহার বলছে তাকে ধরা হয়েছে রাস্তায়, অথচ প্রত্যক্ষদর্শী আর প্রযুক্তির প্রমাণ বলছে তাকে নেওয়া হয়েছে বাড়ি থেকে। প্রশ্ন হলো, বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া একজন মানুষ মুহূর্তের মধ্যে কয়েক কিলোমিটার দূরের রাস্তায় ৫৬ কেজি গাঁজাসহ হাজির হলেন কীভাবে? এই দুই স্থানের মাঝখানের এই বিশাল গরমিলই আজ আমাদের অনুসন্ধানের বিষয়।
তারিখ ১৮ মার্চ, ২০২৫
কসবা থানা পুলিশের এজহার বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা অভিযান চালায় নয়নপুর থেকে কসবাগামী রোডে। স্থানটি টি আলী মোড়ের অনুমান ২০০ গজ দক্ষিণে, ঢাকা বেকারির ঠিক সামনে।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সেখানেই একটি নম্বরবিহীন সাদা রঙের ‘বোলেরো পিকআপ’ (Bolero Pickup) আটক করা হয়। আর সেই গাড়ি থেকেই উদ্ধার দেখানো হয় ৫৬ কেজি গাঁজা। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয় আসামী মো. রুহুল আমিনকে। নথিতে সাক্ষীদের নাম আছে, জব্দ তালিকা আছে—আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো কমতি নেই। পড়লে মনে হবে, এটি পুলিশের একটি স্বাভাবিক এবং সফল অভিযান।
কিন্তু পুলিশের এই নিশ্ছিদ্র গল্পের গায়ে ফাটল ধরালো সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের বক্তব্য।
মামলার এজাহারে যে সময় রাস্তার অভিযানের কথা বলা হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ের আশেপাশেই রুহুল আমিনকে দেখা যাচ্ছে তার নিজ বাড়িতে।
ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, রুহুল আমিনকে কোনো রাস্তা বা গাড়ি থেকে নয়, বরং তার নিজ বাসভবন থেকে ডেকে বের করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে কোনো বোলেরো পিকআপ ছিল না, কোনো মাদকের চালান ছিল না। একজন মানুষকে তার নিরাপদ আশ্রয়স্থল থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার এই দৃশ্যই পুরো মামলার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই—কেনো এই ‘স্থানের গরমিল’।
বাড়ি থেকে টি আলী মোড়ের ঢাকা বেকারির দূরত্ব কিন্তু কম নয়। পুলিশের নথিতে কোথাও উল্লেখ নেই যে তাকে বাড়ি থেকে আনা হয়েছে। সরাসরি দেখানো হয়েছে রাস্তার ওপর।
তাহলে প্রশ্ন জাগে, বাড়ি থেকে শূন্য হাতে বের হওয়া একজন মানুষ কীভাবে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় ৫৬ কেজি গাঁজা আর একটি গাড়ির মালিক বনে গেলেন? মাঝখানের এই সময়টুকুতে আসলে কী ঘটেছিল? কেন তাকে বাড়ি থেকে নেওয়ার বিষয়টি নথিতে গোপন করা হলো? সাধারণত কোনো অভিযান সত্য হলে, স্থান বা সময়ের এমন আকাশ-পাতাল তফাৎ থাকার কথা নয়। এই অসামঞ্জস্যতা কি প্রমাণ করে না যে, ঘটনাটি যেভাবে সাজানো হয়েছে, বাস্তবে তা ঘটেনি?
এই পুরো ঘটনার নেতৃত্ব এবং দায়ভার বর্তায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসির ওপর। কসবা থানার ওসি আব্দুল কাদেরের বদলি আদেশ জারির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা স্থগিত হওয়া নিয়ে এমনিতেই এলাকায় নানা গুঞ্জন রয়েছে। সেই গুঞ্জনের মধ্যেই এমন একটি বিতর্কিত অভিযান।
প্রশাসনিক ক্ষমতার বলে বদলি হয়তো ঠেকানো গেছে, কিন্তু এই যে নথির সাথে বাস্তবতার অমিল—এর জবাব কে দেবে? একজন প্রবাসীকে এভাবে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অন্য স্থানে গ্রেপ্তার দেখানো কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়?
আজ রুহুল আমিন কারাগারে, কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ চিৎকার করে বলছে অন্য কথা। আমরা চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত। নথির আড়ালে চাপা পড়া সত্য উদঘাটন হোক, আর এই রহস্যজনক ‘গরমিল’ এর অবসান হোক। ন্যায়বিচার প্রত্যাশী ভুক্তভোগীর পরিবার এবং কসবাবাসী।
মন্তব্য করুন