মেহারি ইউনিয়নের ইতিহাসের এমন নিকৃষ্টতর চেয়ারম্যান জনগন কখনো প্রত্যেক্ষ করেনি।ক্ষমতার সর্বোচ্চ অপব্যবহার কিভাবে করতে হয় তা সে মেহারি ইউনিয়নের জনগনকে দেখিয়ে দিয়েছে।তার মতো ঘুষখোর, দূর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, ক্ষমতা লোভী, নারী লোভী মানুষ মেহারি ইউনিয়নের মধ্যে অদ্বিতীয় আরেকজন খোঁজে পাওয়া যাবেনা।
তার মতো নরপিশাচ কে ইবলিশের সাথে তুলনা করলে-ও কম হবে।এখন হয়তো আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে -তাহলে মেহারি ইউনিয়নের মানুষ তাকে কেন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। সহজ উত্তর হলো একটাই-তার পিতা মৃত মোবারক হোসেন ছিলো একজন মেহারি ইউনিয়নের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ, ন্যায়বিচারক ও একজন সফল চেয়ারম্যান।হোসেন চেয়ারম্যান এর মৃত্যুর পর তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকায় তার ছেলে আলমকে ইউনিয়ন বাসী চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলো। মেহারি ইউনিয়নবাসীর যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছিল,আলম ছিলো তার সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার কিছু দিন পর থেকেই তার ভিতরের কুৎসিত রুপ জনগনের সামনে প্রকাশ হতে থাকে।আজ আমরা আপনাদের সম্মুখে এই মানুষরুপী ইবলিশের দীর্ঘ রাজনীতির ইতিহাস ও তার আমলনামা তুলে ধরব…..
➤ ২০০৩ সাল মেহারি ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চনে চেয়ারম্যান হওয়ার পরপরই তার ক্ষমতাকে পরিপক্ব করার উদ্দেশ্য তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপিতে যোগদান করে।সে আওয়ামিলীগ হয়েও বিএনপিতে যোগদান করার কারনে এমপি মুশফিকুর রহমানের কাছে তার মূল্যায়ন ছিলো অন্যসব নেতাদের চেয়ে আলাদা।এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রকমের দুর্নীতি,ঘুষ,সরকারি ত্রান আত্মসাৎ করা শুরু করে।২০০৩ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার কিছু দিন পরেই ১কোটি ৭০ লক্ষ টাকার গাঙ কাটার প্রকল্প তার হাতে আসে।এই প্রকল্পে সে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা খরচ করে বাকি টাকাটা আত্মসাৎ করে ফেলে।২০০৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তের জন্যে সরকারি ত্রানেরও বিশাল একটা অংশ আত্মসাৎ করে।মুশফিকুর রহমানের প্রচেষ্টায় সে এই দূর্নীতে থেকে রেহায় পেয়ে যায়।
➤২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসলে সে মুশফিকুর রহমানের সাথে ১৮০ ডিগ্রি এংগেলে পল্টিমারে।বিএনপি ছেড়ে সে আবার আওয়ামিলীগ এর রাজনীতিতে যোগদানকরে।এমনি মুশফিকুর রহমানকে সে শিমরাইল গ্রামে প্রবেশে বাঁধা প্রদান করে।আর আবদুল আওয়াল কে সে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে।
➤২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংঘটিত হয় শিমরাইল গ্রামের ইতিহাসের এক কলঙ্ক জনক ঘটনা।আলম মিয়া তার ক্ষমতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে সাতপাড়ায় তার একটি বিরোধী গ্রুপের সাথে বিবাদে জরিয়ে পড়ে।তার নির্দেশে ঘটিত হয় এক ভয়াবহ সংঘর্ষ আর এই সংঘর্ষের জেরে প্রান হারাতে হয় সরকার বাড়ির মোঃ বাচ্চু সরকারকে।এই ঘটনা শুধু এখানেই শেষ নয়,তার নেতৃত্বে তার পোষা গুন্ডা বাহিনী দিয়ে মানুষের ঘর-বাড়ি ভাংচুর, চুরি-ডাকাতি,চাঁদাবাজি সহ গ্রামের অসংখ্য মানুষকে নিজের ঘরবাড়ি ও পরিবার রেখে দুরে থাকতে বাধ্য করে।
➤২০০৮ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হয় ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।এই নির্বাচনে আওয়ামিলীগ সরকার গঠন করলে তাঁর ক্ষমতা পূনরায় ফুলেফেঁপে উঠে।তারপর থেকেই শুরু হয় এই কুখ্যাত আওয়ামী দোসরের নৃশংস সব কার্যকলাপ।মেহারি ইউনিয়ন একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করার উদ্দেশ্যে মানুষের উপর বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পুরো ইউনিয়নের মানুষকে একপ্রকার জিম্মি করে ফেলে।জনগনের প্রতি অন্যায় জুলুম, অত্যাচার, এগুলোর মাত্রা দিনদিন বাড়তে থাকে।
➤২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয় মেহারি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।এই নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে মানুষ তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে।এই নির্বাচনে মোস্তাফা কামাল চেয়ারম্যান এর কাছে সে বিপুল ভোটে লজ্জাজনক ভাবে পরাজিত হয়।কিন্তু দলীয় ক্ষমতার কারনে তার প্রভাব প্রতিপত্তি বিন্দুপরিমান কেউ কমাতে পারেনি।এভাবেই মেহারি ইউনিয়ন বাসী তার ক্ষমতার যাতাকলে নিষ্পেষিত হতে থাকে বছরের পর বছর।
➤২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পূনরায় সরকার গঠন করে।সারাদেশে তখন একটি একনায়কতন্ত্র কায়েম হয়ে যায়।সেই সুবাদে আলম মিয়া অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়ে।তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস ও শক্তি মেহারি ইউনিয়নের জনগনের মধ্যে বিন্দুমাত্র বাকি থাকে নাই।সমস্ত প্রকারের সিন্ডিকেট,চাঁদাবাজি, ঘুষ,দুর্নীতি,মাদক কারবারি সহ জঘন্য সব অন্যায় অবিচার তাঁর ইশারায় তার ঘনিষ্ঠ লোকজন পরিচালিত করত।
➤২০১৬ সালে আবারো অনুষ্ঠিত হয় মেহারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।এই নির্বাচনে সে তার নিশ্চিত পরাজয় দেখে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল আওয়াল ও তার কর্মী সমর্থকদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও মামলা হামলা করে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে।এতেও যখন আবদুল আওয়ালের জয় ঠেকানো সম্ভব হচ্ছিলনা তখনই সে রচিত করে মেহারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের এযাবৎ কালের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম ঘটনা যা মেহারি ইউনিয়নের ইতিহাসে একটি কালো দিন হিসেবে মানুষ স্বরনে রাখবে।সে তার দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মেহারি ইউনিয়নের প্রতিটা কেন্দ্র জোরপূর্বক দখল করে আবদুল আওয়াল এর সবগুলো এজেন্টকে বের করে দেয় এবং তার গুন্ডা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যালট প্যাপারে তার মার্কার সীল মেরে বিজয় ছিনিয়ে নেয়।
➤২০১৯ সালে ভুয়া জাতীয় নির্বাচনের পরে সাতপাড়া সমাজে সরকারিভাবে প্রায় ১৫০০ একরের একটি মৎস্য প্রজেক্টের বাস্তবায়ন করা হয়,যার মুল অবদান ছিলো হাজী শাহজাহান মিয়ার।হাজী শাহজাহান মিয়া সহ আরো একাধিক ব্যক্তি এই মৎস্য প্রজেক্টে প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে।কিন্তু এই লোভী আলম মিয়া তার লোভ সামলাতে না পেরে একটি নিকৃষ্ট চক্রান্ত করে হাজী শাহজাহান ও অন্যান্য বিনিয়োগ কারীদেরকে এই প্রজেক্ট থেকে বিতাড়িত করে দিয়ে এককভাবে সে এ মৎস্য প্রজেক্ট দখল করে।
➤২০২০ সালে ভয়াবহ করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কারনে অসহায় পরিবারগুলো কে সরকার পক্ষ থেকে ২৫০০ টাকা করোনা কালীন প্রনোদনা দেওয়া হয়।কিন্তু আলম মিয়া ২৫০ জনের প্রনোদনার টাকা নিজে আত্মসাৎ করে ফেলে।আর ওই সময়ই জনগনের সামনে আসে তার ঐতিহাসিক নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা।তার নারী কেলেঙ্কারি এবং করোনা কালীন প্রনোদণার টাকা আত্নসাদের খবর মিডিয়ায় ব্যাপক আকারে প্রকাশিত হওয়ার কারনে তৎকালীন অবৈধ সরকারের
তিনি হলেন
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নিতে বাধ্য হয় এবং তাকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করে।
➤২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও আবদুল আওয়ালকে ঠেকাতে সে বিশিষ্ট মজনু চেয়ারম্যান এর ভাতিজাকে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যান নির্বাচনে সহযোগিতা করে গিয়েছে,যার ফলাফল শিমরাইল গ্রামবাসি তাদের ঐতিহ্য চেয়ারম্যান পদটি হারিয়েছে।
➤২০২৪ সালে স্বপন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার প্রভাব প্রতিপত্তি পূনরায় ফিরে আসে।কিন্তু ২০২৪ এর ৫ ই আগষ্টে ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা দেশ থেকে পলায়ন করে।বিগত ১৭ বছরের অন্যায় অবিচার থেকে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি পায়।
☞কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এই স্বৈরশাসক থেকে মুক্তি পেলেও মেহারি ইউনিয়ন তথা শিমরাইলের জনগন এই স্বৈরশাসক থেকে মুক্তি পায়নি।বিএনপির মধ্যে বিবাদমান দুটি গ্রুপের একটি গ্রুপ তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও আধিপত্য কায়েমের লক্ষ্যে এই আলমের মতো নিকৃষ্ট নরপিশাচকে সাথে নিয়ে এক নোংরা রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠেছে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান
পরিশেষে শুধু একটি কথা বলতে চাই যে,যারা স্বৈরাচার খুনি আলমকে সঙ্গী করে রাজনৈতিক নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন খুব শীগ্রই তাদের অবস্থাও হবে পলাতক হাসিনার মতো..
মন্তব্য করুন