তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: কসবায় বর্তমান আতঙ্ক ‘লায়ন শাকিল-বাদশাহ জুয়েল’ সিন্ডিকেট; এবার সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম কে প্রকাশ্য গুলি করে হত্যার হুমকি
বর্তমানে লায়ন শাকিল ও তার সহযোগী একজন জেলে থাকলেও তার অপরাধ জগতকে পরিচালনা করছেন বাদশা জুয়েল ও তার ভাতিজা খ্যাত হৃদয় চৌধুরী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তজুড়ে এখন এক আতঙ্কের নাম ‘লায়ন শাকিল ও বাদশাহ জুয়েল’ গ্রুপ। একের পর এক পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং প্রকাশ্য হুমকির মাধ্যমে জনপদটিকে অশান্ত করে তুলেছে এই সন্ত্রাসী চক্র। সম্প্রতি ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম হোসেনকে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাদের নিশানায় পড়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম। তাকে প্রকাশ্য গুলি করে মারার হুমকি দিয়েছেন এই চক্রের অন্যতম সদস্য এবং বাদশাহ জুয়েলের ভাতিজা হিসেবে পরিচিত হৃদয় চৌধুরী। এর পূর্বেও হৃদয় জনপ্রিয় ব্লগার মেহেদী হাসান কে কব্জি কেটে নেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিলেন।
হুমকির মুখে সংবাদমাধ্যম: দ্বীন ইসলামের জীবন সংকটে
তদন্তে জানা গেছে, কসবা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক সাম্রাজ্যের নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরায় দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে চটেছে এই চক্রটি। লায়ন শাকিল গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হৃদয় চৌধুরী অনলাইন এবং অফলাইনে সাংবাদিক দ্বীন ইসলামকে গুলি করে হত্যার হুমকি প্রদান করছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ও জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার শঙ্কা তৈরি হয়েছে এলাকাজুড়ে।
একজন সাংবাদিককে এভাবে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াকে ‘রহস্যজনক’ এবং ‘উদাসীনতা’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
লায়ন শাকিল ও বাদশাহ জুয়েল কারাগার থেকেই তাদের পরিকল্পনা করেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি টিম।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম হোসেনের ঘাতক লায়ন শাকিল এবং চকবস্তা গ্রামের কুখ্যাত মাদক সম্রাট বাদশাহ জুয়েল সেখান থেকেই তাদের অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করার প্লান করেন। বর্তমানে লায়ন শাকিলের অবর্তমানে গ্রুপের বাইরে মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছেন বাদশাহ জুয়েলের ভাতিজা হৃদয় চৌধুরী। তার নেতৃত্বে এই গ্রুপটি কসবার কায়েমপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সীমান্ত পিলারের কারিগরি বিশ্লেষণ ও পালানোর পথ
অনুসন্ধানী দল এই চক্রের ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ পালানোর পথ চিহ্নিত করেছে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং প্রাপ্ত ছবির তথ্য অনুযায়ী, কসবার কায়েমপুর ইউনিয়নের চকবস্তা সীমান্ত সেকশন সন্ত্রাসীদের নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পিলারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান:
মেইন পিলার নম্বর: ২০৩৯,২০৪১
সাব-পিলার: ১২-এস (12-S)
নির্দেশক: IND (ভারত অভিমুখে)
ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চকবস্তা এবং কালতা এলাকার টিলা ও ঘন ঝোপঝাড় অপরাধীদের জন্য প্রাকৃতিক আড়াল হিসেবে কাজ করে। এই ২০৪১ নম্বর পিলারের পাশ দিয়েই লায়ন শাকিল ও তার সহযোগীরা ইতিপূর্বে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় রাতের অন্ধকারে সীমান্তরক্ষীদের নজর এড়িয়ে অবৈধ পারাপার ও মাদক পাচার সহজ হয়।
প্রশাসনের ‘নিশ্চুপ’ ভূমিকা ও জনমনে আতঙ্ক
কসবার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও প্রশাসন কার্যত ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ হয়ে বসে আছে। সাংবাদিককে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পরও হৃদয় চৌধুরীর মতো চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন:
“সাদ্দামকে মারার আগে তারা হুমকি দিয়েছিল, মেরে ফেলল।কিছুদিন আগে মেহেদীকে কব্জি কেটে নেওয়ার হুমকির ৬ ঘণ্টার মাথায় রিফাত খা তার দলবল নিয়ে আক্রমন করে বসে।এখন সাংবাদিককে হুমকি দিচ্ছে। আমরা ভয়ে মুখ খুলতে পারি না। পুলিশ কেন চুপ করে আছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
উপসংহার
কসবায় আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লায়ন শাকিল গ্রুপের ও বাদশাহ জুয়েল সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলা জরুরি। বিশেষ করে হৃদয় চৌধুরীর মতো যারা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে কসবায় আরও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন