দেলোয়ার হোসেন পাটওয়ারী
বিশেষ প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তালাকপ্রাপ্ত এক নারীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্বামী ও স্বজনরা। প্রাণনাশের হুমকিতে বসত বাড়িতে ফিরতে পারছেন না প্রবাসী স্বামী, এ নিয়ে চলছে ঐ এলাকায় তালাকপ্রাপ্ত মহিলাকে নিয়ে বিপক্ষে বিতর্কে নানা গুঞ্জন।
ঘটনাটি ঘটেছে,লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের আলী আকবর পাটোয়ারী বাড়িতে। তারই প্রতিবাদে সদ্য প্রবাস থেকে ছুটিতে আসা আলোচিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ডিসেম্বর ওই বাড়ির আলী আকবর এর প্রবাসী ছেলে মো: রুমান তার ডিভোর্স দেয়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ এনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি বলেন, আনুমানিক ২৪ বছর পূর্বে আমি ফরিদগঞ্জ থানার অন্তর্গত পশ্চিম সাহেবগঞ্জ গ্রামের হক ব্যাপারীর মেয়ে রেহানা বেগমকে বিবাহ করি।
সে মোতাবেক তার সাথে দীর্ঘ দিন যাবত ঘর সংসার করে আসছি। একসময় জীবিকার টানে আমি কর্মসন্ধানে প্রবাসে পাড়ি জমাই।আমার প্রবাস জীবনে কষ্টে উপার্জিত টাকা তার নামেই রীতিমতো প্রেরণ করে আসছি। কিন্তু “বিধি বাম “।
রেহানার ভেতরে চলে আসে সুখের প্লাবনে মনোরঞ্জনের পরিবর্তন। আমার কাছে (প্রবাসে) আসতে থাকে একের পর এক আপত্তিকর অভিযোগ।যা আমি কখনো কামনা করিনি। পরিপেক্ষিতে আমি গত তিন বছর আগে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসলে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর কাছে শুনতে পাই তার নামে ব্যাপক অর্থ ঋণ ও নানান অপবাদের কথা। প্রশ্ন উঠে তার নৈতিক চরিত্র নিয়েও। প্রতিনিয়ত আমার আত্মীয়-স্বজনের সাথে গালমন্দ ও মারামারি করে থাকে।
তাই আমি তার এহেন কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে গত ১০ জানুয়ারি ২৩ সালে লক্ষ্মীপুর কোর্ট এফিডেভিট এর মাধ্যমে একটি তালাকনামা প্রদান করি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ১৭ অক্টোবর ২৩ সালে উকিল লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে একটি লিগ্যাল বার্তা পাঠাই তার দেনমোহর বুঝে নেওয়ার জন্য। কিন্তু সে পাপ্য বুঝে না নিয়ে এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িতে আমার ভাই-বোনদের সাথে অমানবিক আচরণ শুরু করে।
যার প্রেক্ষিতে আমি পর্যায়ক্রমে গত ১৭ ডিসেম্বর ২৩ সালে রায়পুর থানায় বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে একটি অভিযোগ দায়ের করি। অদৃশ্য কারণবশত সেখানে তা অমীমাংসিত থাকায় ফের লক্ষ্মীপুর লিগ্যাল এইড আদালতে পুনরায় (পক্ষে বাদী) করে আমি ১টি মামলা দায়ের করি কিন্তু সেখানেও এ মহিলা নানান টালবাহানা দেখিয়ে চলে আসে এবং এ পর্যন্ত ইসলামী শরিয়া অমান্য করে অবৈধভাবে আমার বসত ঘরে অবস্থান করছে।একটু বাক-বিতণ্ডা হলেই তর্কে জড়িয়ে আমার ভাইবোন ও ভাবিদেরকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় ধাওয়া করে।বর্তমান সে একটি প্রভাবশালী মহলের ছএ ছায়ায় থেকে সকল অপকর্ম করে যাচ্ছে। এমত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ইসলামী শরিয়ানুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী বলেন, তালাকপ্রাপ্ত মহিলা স্বামী গৃহে থাকা সমাজ ও ইসলামদ্রোহী।
অন্যদিকে তালাকপ্রাপ্ত রেহানা বেগমের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
মন্তব্য করুন