মেহেদী হাসান কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): রক্তের সম্পর্কের চেয়েও টাকার মোহ যখন বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন আপন চাচাও হয়ে ওঠেন নিয়োগ বাণিজ্যের দালাল। কসবায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ক্ষমতাকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা নিয়োগ সিন্ডিকেটের এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ২০১৮ সালে আপন ভাতিজা মাহমুদুল হাসানকে পুলিশে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৮ লক্ষ টাকার চুক্তি করেন চাচা আমজাদ মাস্টার। যার বড় একটি অংশ গিয়েছে সাবেক আইনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আলাউদ্দিন বাবুর পকেটে।
ঘটনার বিবরণ:
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের সময় মাহমুদুল হাসানকে চাকরির টোপ দেন তার আপন চাচা আমজাদ মাস্টার। তবে এই ‘সহযোগিতা’ ছিল সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক। চাকরি নিশ্চিত করতে মাহমুদুল হাসানকে গুনতে হয়েছে ৮ লক্ষ টাকা।
হিসাব অনুযায়ী, এই টাকার মধ্যে আমজাদ মাস্টার নিজে নিয়েছেন ৩ লক্ষ টাকা। আর ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে থাকা আইনমন্ত্রীর এপিএস আলাউদ্দিন বাবুকে দেওয়া হয়েছে বাকি ৫ লক্ষ টাকা। নিজের আপন ভাতিজাকে দাবার ঘুঁটি বানিয়ে আমজাদ মাস্টারের এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
চাকরি পেতে মানতে হতো যে ‘তিন শর্ত’:
আমজাদ মাস্টার ও আলাউদ্দিন বাবু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাকরি পেতে হলে প্রার্থীকে শুধু মেধাবী হলেই চলতো না, পালন করতে হতো তিনটি কঠোর শর্ত:
মাঠ পর্যায়ের দাসত্ব: মাহমুদুল হাসানের মতো প্রার্থীদের অন্তত ২ বছর মাঠ পর্যায়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আমজাদ মাস্টার এবং স্থানীয় মোক্তার মেম্বারের সভা-সমাবেশে অগ্রভাগে থাকতে হতো।
আদর্শিক বাধ্যবাধকতা: প্রার্থীকে কট্টর মুজিবাদর্শী ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হওয়া ছিল বাধ্যতামূলক।
সম্পদ ও অর্থ: নগদ টাকা দিতে না পারলে ভিটেমাটি বা জমি লিখে দেওয়ার মতো কঠিন শর্তও জুড়ে দিত এই চক্রটি। মাহমুদুল হাসানের ক্ষেত্রে নগদ ৮ লক্ষ টাকাই ছিল নিয়োগের মূল চাবিকাঠি।
জনমনে প্রশ্ন:
একজন শিক্ষক হয়ে আমজাদ মাস্টার কীভাবে নিজের ভাতিজার সাথে এমন প্রতারণা ও নিয়োগ বাণিজ্যে লিপ্ত হলেন, তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। স্থানীয়দের মতে, মোক্তার মেম্বার এবং আলাউদ্দিন বাবুর ছত্রছায়ায় আমজাদ মাস্টার কসবায় এক অঘোষিত ‘নিয়োগ সম্রাট’ হয়ে উঠেছিলেন।
মন্তব্য করুন