নিজস্ব প্রতিবেদক, কসবা
কসবা উপজেলার সীমান্তবর্তী কায়েমপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সারল্য এবং দারিদ্র্যকে পুঁজি করে নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য আড়াল করার অপচেষ্টায় মেতেছে শীর্ষ মাদক সম্রাট ও তালিকাভুক্ত স্মাগ্লার জুয়েল বাদশাহ। নিজেকে ‘সমাজকর্মী’ দাবি করে সম্প্রতি সে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ চ্যানেলের বিরুদ্ধে যে বিষোদগার শুরু করেছে, তা মূলত সত্যকে আড়াল করার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র।
মিথ্যাচারের নির্লজ্জ মহড়া
সম্প্রতি ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিউজ’ নামীয় একটি ফেসবুক পেজ থেকে জুয়েল বাদশাহর মদদে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’র বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তবে সত্যের তেজ এতটাই ছিল যে, প্রতিবেদনটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই তা পেজ থেকে সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একজন পেশাদার সংবাদকর্মী এবং সহকর্মী হিসেবে আমরা মনে করি, চিহ্নিত মাদক সন্ত্রাসদের ফাদে নিজেদের পা ফেলে সাংবাদিকতার পবিত্র পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করাটাই পেশাদার সাংবাদিকদের উত্তম চরিত্রের উদাহরন।
পকেট সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতা হরণ
অভিযোগ উঠেছে, কসবার কিছু চিহ্নিত ‘পকেট সাংবাদিক’কে অর্থের বিনিময়ে কিনে নিয়েছে এই মাদক সম্রাট। যার ফলে স্থানীয় অনেক মাধ্যমেই তার অপরাধের খবর আসছে না। কিন্তু সত্য প্রকাশে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ এবং এই অঞ্চলের ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কখনো পিছপা হবে না।
দারিদ্র্যকে পুঁজি করে ‘ত্রাসের রাজত্ব’
কায়েমপুর ইউনিয়নের ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে এবং সাক্ষরতার হার মাত্র ৪৯.৬ শতাংশ। এই প্রতিকূলতাকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে জুয়েল। অবৈধ চোরাচালান ও মাদকের কালো টাকা এলাকার দরিদ্র মানুষের মাঝে বিলিয়ে সে একটি কৃত্রিম ‘জনপ্রিয়তা’ তৈরি করেছে। এই অর্থ মূলত সাধারণ মানুষের রক্ত চোষা টাকা, যা দিয়ে সে নিজের অপরাধ ঢাকতে একটি রক্ষাকবচ তৈরি করতে চায়। গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় এই শীর্ষ স্মাগ্লারের নাম থাকলেও, সে অর্থের দাপটে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার চেষ্টা করছে।
সেনা সার্জেন্টের ওপর হামলা ও সাইবার সন্ত্রাস
গত ২০ জানুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট শামীমকে প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর করার মধ্য দিয়ে জুয়েল তার হিংস্র রূপ প্রকাশ করেছে। এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে সে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ‘জুয়েল বাদশা সাইবার আর্মি’ নামক একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ তৈরি করে সে ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে গালিগালাজ, মিথ্যাচার এবং সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষদের হুমকি দিচ্ছে। এটি স্পষ্টত একটি ডিজিটাল অপরাধ।
শেষ কথা , জুয়েল বাদশাহর মতো অপরাধীরা সমাজকর্মীর মুখোশ পরে রাষ্ট্র ও সমাজের চোখে ধুলো দিতে পারবে না। কসবা ও কায়েমপুরের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এবং সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে সত্যকে স্তব্ধ করা অসম্ভব। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আমাদের দাবি, অনতিবিলম্বে এই চিহ্নিত মাদক সম্রাট ও তার সাইবার বাহিনীর মুখোশ উন্মোচন করে তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি।
মন্তব্য করুন