মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২ (২৯) ধারানুসারে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রথম তফসিলে উল্লিখিত যে কোন দ্রব্য বা মাদক দ্রব্যের সহিত অন্য যে কোন দ্রব্য মিশ্রিত করে সেবন করলে বা পান করলে নেশাগ্রস্থ হয় এমন দ্রব্যাদিকে মাদকদ্রব্য বলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২ (২৯) ধারা।
২। মাদকাসক্তঃ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২ (৩১) ধারানুসারে শারীরিক অথবা মানসিকভাবে মাদকদ্রব্যের উপর নির্ভরশীল কোন ব্যক্তি বা অভ্যাসগতভাবে মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারী বা মাদকদ্রব্য সেবনকারী কোন ব্যাক্তিকে মাদকাসক্ত বলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২ (৩১) ধারা।
৩। মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রঃ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২ (৩২) ধারানুসারে এই আইনের অধীন সরকারি খাতে স্থাপিত বা ঘোষিত বা বেসরকারি খাতে অনুমোদিত কোন প্রতিষ্ঠানকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র বলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২ (৩২)ধারা।
৪। পর্নোগ্রাফিঃ
পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ২(গ) ধারা মোতাবেক কোন অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও, স্থির চিত্র, অশ্লীল বই, সাময়িকী, ভাস্কর্য, কল্পমুর্তি, মুর্তি, কার্টুন উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এ ধরণের যৌন উত্তেজনা পর্নোগ্রাফি বলে। বা লিফলেট যা যৌন সৃষ্টিকারী জিনিস বা বস্তুকে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২(গ) ধারা।
৫। কিশোর অপরাধঃ
শিশু বা কিশোরেরাই জাতির ভবিষ্যৎ, আগামী দিনের সুনাগরিক, দেশের চালিকা শক্তি। তাই শিশু- কিশোরদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নতুবা তারা বয়স বাড়ার সাথে সাথে অপরাধে জড়িয়ে নিজেদের কিশোর অপরাধী হিসেবে গড়ে তুলবে। শিশু আইন ১৯৭৪ মোতাবেক ১৬ বছরের কম বয়স্ক ছেলে বা মেয়েকে শিশু হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং এই বয়সের ছেলে মেয়ে কোন অপরাধ করলে তাহ্য কিশোর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। আইনে শিশুর বয়সের কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে। শিশু-কিশোর অপরাধী হওয়ার পিছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেমনঃ ১. পিতা মাতার অযত্ন, অবহেলা, অবক্ষয়, ২. পারিবারিক সংঘাত, কুপ্রভাব, ৩. দারিদ্রতা, ৪. পরিবেশ ও সঙ্গদোষ, ৫. শিক্ষার অভাব, ৬. অপসংস্কৃতির প্রভাব, ৭. সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব প্রভৃতি। কিশোর অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনার লক্ষ্যে নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পুলিশ অফিসার যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারেন। কিশোর অপরাধীকে আসামী না বলে প্রতিপক্ষ বলতে হয় এবং শিশু আইনের ৫১ ধারা মোতাবেক কোন অবস্থাতেই বিচারে শিশুকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া যাবে না। শিশু আইন ৫১ ধারা।
৬। ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমঃ
সমাজের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের ক্রাইম ব্য অপরাধ সংগঠিত হয়। অপরাধের প্রকৃতি ও ধরণ অনুযায়ী বিভিন্ন ভৌগলিক পরিমন্ডলে অপরাধ ভিন্ন নামে অবিহিত হয়, এমন একটি অপরাধের নাম হলো ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম। এ ধরনের অপরাধ সাধারণত এক দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে অন্য দেশের অনুরূপ সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের সাথে মিলে বা যোগসাজসে হয়ে থাকে। অর্থাৎ এক দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে অন্য দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের যোগসাজসে যে অপরাধ গুলো সংঘটিত হয় তাকে ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বলে। যেমনঃ হুন্ডি ব্যবসা, নারী ও শিশু পাচার, অস্ত্র চোরাচালানী ও মাদকদ্রব্য আনা নেওয়া ইত্যাতি। এধরণের অপরাধ সংশ্লিষ্ট দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
৭। ম্যান্সরিয়াঃ
ম্যান্সরিয়া হলো একটি বিশেষ অর্থবোধক শব্দ। এর তাত্ত্বিক অর্থ হলো দোষহীন। প্রতিটি মানুষের মধ্যে সুপ্ত/গোপনীয় অবস্থায় এটি অবস্থান করে। মানুষ সাধারণত দোষীমনের তাড়নায় অনৈতিক বা বেআইনী কাজ করে থাকে। অপরাধ বিজ্ঞানের পরিভাষায় মানুষকে অপরাধ করার জন্য সায়দানকারী বা কুমন্ত্রণা দানকারী মনকে ম্যান্সরিয়া বলে। ম্যান্সরিয়া ব্যতীত অপরাধ সংঘটিত হয় না।
৮। একটাসরিয়াঃ
একটাসরিয়া অর্থ দোষীমনের কুমন্ত্রণায় অপরাধজনক কার্য সংঘটন করা। মানুষ যখন কোন কাজ করে তখন তার মনের মধ্যে এক ধরনের দোষীমন কুমন্ত্রনা দেয় বা সায় দেয় এই সায়দানকারী মনকে ম্যান্সরিয়া বলে। ম্যান্সরিয়া বা দোষীমনের তাড়নায় বা কুমন্ত্রণায় মানুষ যখন ফৌজদারী আইনে নিষিদ্ধ কোন অপরাধ সংঘটন করেন তখন তাকে একটাসরিয়া বলে।
৯। ইডিয়সি (Idiocy)
ইডিয়সি শব্দের অর্থ বোকা অর্থাৎ যেখানে বুদ্ধির অভাব থাকে। বুদ্ধিমত্তার অভাবই ইডিয়সি। মাতা-পিতার নেশাগ্রস্থতা, নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বৈবাহিক বন্ধন হলো জন্মগত ইডিয়সির একটা প্রধান কারণ। কোন শিশুর শৈশব অবস্থায় মৃগীরোগ বা মস্তিস্কে কোন আঘাত বা হঠাৎ কোন স্নায়ুবিক চাপ বা ভয় ইত্যাদির কারণে এই রোগ হতে পারে। যথাযথ এবং নিয়মিতভাবে বিশেষ বিশেষ কিছু প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই অবস্থার অনেকটা উন্নতি ঘটানো সম্ভব।
১০। সংঘবদ্ধ অপরাধঃ
কেউ একা অপরাধ করলে তাকে অপরাধী বলা যাবে, তাকে সংঘবদ্ধ অপরাধী বলা যাবে না। কোন সংঘবদ্ধ দল একই উদ্দেশ্য সাধন কল্পে যদি বিশেষ কোন অপরাধ করে থাকে তাহলে তাকে সংঘবদ্ধ অপরাধ বলে। এরূপ অপরাধে যারা জড়িত তাদেরকে সংঘবদ্ধ অপরাধী বলা হয়। এ ধরনের অপরাধীদের স্থায়ী সংগঠন থাকতে পারে। নেতার অবর্তমানে উপনেতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। অর্থাৎ কয়েক বস্তুর বিশিষ্ট অপরাধ চক্র থাকতে পারে। সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্য সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে না। কোন বৈধ ব্যবসার আড়ালেও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র এধরনের অপরাধ করতে পারেন। যেমনঃ মাদকদ্রব্য, চোরাচালানী, ঘুষ-দূর্নীতি ইত্যাদি। সমাজের প্রভাবশালীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন গড ফাদারদের মাধ্যমে নিজেদের আড়াল করে আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে সংঘবদ্ধ অপরাধ করে থাকেন।
১১। কর্পোরেট ক্রাইমঃ
কর্পোরেট ক্রাইম হোয়াইট কলার অপরাধ হিসেবে গণ্য। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাগণ জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে আইনভঙ্গ করে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হয়। ধরা পড়লেও তারা পার পেয়ে যান এবং এক সংস্থা হতে অন্য সংস্থায় নিয়োগ প্রাপ্ত হন। দুর্নীতির কারণে তারা কোন ভাবে চাকরিচ্যুত হলে আবার চাকরি ফিরে পান। উক্ত কর্মকর্তাদের প্রকৃত জবাবদিহিতার অভাব। তারা ব্যক্তিগতভাবেও অবৈধ প্রভাব বিবস্থার করেন এবং সরকারি কলকারখানা গুলোকে রুগ্ন দেখিয়ে পানির দামে স্বার্থান্বেসির নিকট বিক্রি করে দেন। তাদের এমন অবৈধ কার্যকলাপের কারণে কর্পোরেট ক্রাইম সৃষ্টি হয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি লোকসানের বোঝা টানতে টানতে নিঃস্ব হয়ে যায়।
১২। মোডাস অপারেন্ডিঃ
Modus operandi অর্থ কৌশল, প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি। প্রত্যেক অপরাধী অপরাধ সংঘটনের পূর্বে একটি নির্দিষ্ট কৌশল বা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে থাকে। অপরাধীর নিকট যে কৌশল বা পদ্ধতি সহজ মনে হয় সেই পদ্ধতি অবলম্বন করে একবার অপরাধ করার পর সফলতা অর্জন করলে পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়ায় বা পদ্ধতিতে বারবার অপরাধ করে এবং সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি ধরে রাখতে সচেষ্ট হয়। অর্থাৎ কোন অপরাধী অপরাধ সংঘটনের সময় যে নির্দিষ্ট কৌশল বা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে থাকে তাকে মোডাস অপারেন্ডি বলে। সকল অপরাধীর মোভাস অপারেওি এক রকম হয় না। ভিন্ন ভিন্ন দলের মোডাস অপারেওি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমনঃ মে অপরাধী রোড ডাকাতি করে সফলতা পায়, সে অপরাধী সাধারণত গৃহে ডাকাতি করে না। ইংল্যান্ডের স্যার আর্চালি এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। মোডাস অপারেন্ডির মাধ্যমে অপরাধীকে সনাক্ত করা যায়।
১২। মোডাস অপারেন্ডিঃ
Modus operandi অর্থ কৌশল, প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি। প্রত্যেক অপরাধী অপরাধ সংঘটনের পূর্বে একটি নির্দিষ্ট কৌশল বা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে থাকে। অপরাধীর নিকট যে কৌশল বা পদ্ধতি সহজ মনে হয় সেই পদ্ধতি অবলম্বন করে একবার অপরাধ করার পর সফলতা অর্জন করলে পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়ায় বা পদ্ধতিতে বারবার অপরাধ করে এবং সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি ধরে রাখতে সচেষ্ট হয়। অর্থাৎ কোন অপরাধী অপরাধ সংঘটনের সময় যে নির্দিষ্ট কৌশল বা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে থাকে তাকে মোডাস অপারেন্ডি বলে। সকল অপরাধীর মোভাস অপারেওি এক রকম হয় না। ভিন্ন ভিন্ন দলের মোডাস অপারেওি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমনঃ মে অপরাধী রোড ডাকাতি করে সফলতা পায়, সে অপরাধী সাধারণত গৃহে ডাকাতি করে না। ইংল্যান্ডের স্যার আর্চালি এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। মোডাস অপারেন্ডির মাধ্যমে অপরাধীকে সনাক্ত করা যায়।
১৩।ডিএনএ অর্থ ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড, যা প্রতিটি মানব দেহ কোষে অবস্থান করে। অপরাধীর রক্ত, কোষ, লালা, বীর্য, মূলসহ চুল, হাড়, মুত্র, দেহ থেকে নির্গত ঘাম ইত্যাদির ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধীকে সনাক্ত করা যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো বিশ্বে কোনো মানুষের আঙ্গুগুলের ছাপের সাথে অন্যকোনো মানুষের আঙ্গুগুলের ছাপ মিলে না এই ছাপের মাধ্যমে অপরাধীকে যেমন সনাক্ত করা যায় তেমনি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও অপরাধীকে সনাক্ত করা যায়। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে অপরাধ নিবারণ, অপরাধের তথ্য উদঘাটন। এবং অপরাধীকে সনাক্তকরণে যত প্রকার প্রযুক্তি আবিষ্কার করা হয়েছে তন্মধ্যে ডিএনএ (DNA) উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বেওয়ারিশ লাশ, বিতর্কিত সন্তানের পিতৃ পরিচয় এবং ধর্ষণের ক্ষেত্রে ধর্ষককে সনাক্ত করা যায়। অত্র আইনের ৩৭ ধারা মোতাবেক ডিএনএ রিপোর্ট আদালতে প্রাসঙ্গিক। ডিএনএ আইন ২(৫), ১২ ধারা।
১৫। সিডিআর (CDR) call Details Record:
বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। মোবাইল ফোন মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি নানাবিধ অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রেও বহুল ব্যবহার হচ্ছে। অপরাধীরা অপরাধ সংঘটনের জন্য তাদের সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ করতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন। অপরাধীরা অপরাধ সংঘটনের সময়। তাদের ব্যবহৃত ফোনে কোন সিম ব্যবহার করছে, কার কার সাথে কথা বলেছে, কি কথা বলেছে, কত সময় কথা বলেছে, ফোন ব্যবহারকারীর পরিচয় কি, তার আইএমইআই, এফএনএফ নম্বর, সহযোগীর মোবাইল নম্বর, ঘটনাস্থলে অবস্থান, রেজিষ্ট্রেশনকৃত ব্যক্তির নাম ঠিকানাসহ সকল তথ্যাদি সিডিআর (Call Details Record) পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা যায়। অপরাধীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের এসব তথ্য উদঘাটনের এই প্রক্রিয়াকেই CDR বলে। তদন্তকারী কর্মকর্তা সিডিআর পর্যালোচনার মাধ্যমে অপরাধীর পরিচয়, নাম ঠিকানা জানতে পারে। তথ্য প্রযুক্তির যোগে অপরাধ দমনে ও অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সিডিআর এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
১৬। এলআইসি (LIC) Lawful Interception Cell:
অপরাধীরা অপরাধ সংঘটনের জন্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধীদের যোগাযোগ স্থাপনের এই তথ্য বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানীর নিকট থেকে সংগ্রহ করা হয়। মোবাইল ফোন অপারেটরদের সাথে যোগাযোগ করে অপরাধীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের Call Details Record সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের যে সংস্থা বা শাখা কাজ করে থাকেন সেই শাখাকে এলআইসি (Lawful Interception Cell) বলে। বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, সিআইডি, এসবি, ডিএমপি, র্যাব, পিবিআই এর LIC নামে একটি শাখা রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উক্ত শাখার mail address এ আবেদন করে অপরাধীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের CDR সংগ্রহ করে থাকেন।
১৭। মোবাইল কোর্ট (Mobile Court):
মোবাইল কোর্ট অর্থ ভ্রাম্যমান আদালত। ২০০৯ সালে প্রণীত মোবাইল কোর্ট আইনের ৪ ধারা মোতাবেক জেলা প্রশাসনের নির্বাহী আদেশে দেশের যেকোন স্থানকে আদালত হিসেবে গণ্য করে সেই এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোটের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনস্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধ কল্পে কিছু কিছু অপরাধকে তাৎক্ষণিকভাবে আমলে গ্রহণ করে বিচারকার্য পরিচালনা করে থাকেন। মোবাইল কোর্টে অপরাধীকে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানা দু-ধরণের সাজাই দেওয়া হয়ে থাকে। ভ্রাম্যমান এই তড়িৎ বিচার ব্যবস্থাকেই মোবাইল কোর্ট বলে। এ আইনের ৭ ধারায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।
১৮। সমনের অতিরিক্ত পরোয়ানা (In Addition to Sommons):
কার্যবিধি ৬৮ ধারা মোতাবেক সমন ইস্যু করার পর যদি সাক্ষী আদালতে হাজির না হয় বা সমন জারিকারী আদালত যদি মনে করেন সাক্ষী কোন অযুহাতে আদালতে হাজির হবে না সেক্ষেত্রে আদালত উক্ত সাক্ষীর বিরূদ্ধে যে পরোয়ানা ইস্যু করেন তাকে সমনের অতিরিক্ত পরোয়ানা বলে। এধরণের সাক্ষীকে কার্যবিধি ১৭১ ধারা মোতাবেক বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা যায়। ফৌঃ কাঃবিঃ ৯০ ধারা।
১৯। তল্লাশি পরোয়ানা (Search-warrants):
ফৌজদারী কার্যবিধি ৯৪ ধারা মোতাবেক মামলার দলিল বা আলামত, ৯৫ ধারা মোতাবেক অবৈধ ডাক- পার্সেল, ৯৮ ধারা মোতাবেক চোরাইমাল, জাল দলিল, নকল সিল বা জালনোট তৈরির যন্ত্রপাতি, ৯৯ (ক) ধারা মোতাবেক কোন অশ্লীল বই, ম্যাগাজিন এবং ১০০ ধারা মোতাবেক অবৈধভাবে আটক ব্যক্তিকে উদ্ধার করার জন্য আদালত কর্তৃক স্বাক্ষরিত সীলমোহরযুক্ত যে পরোয়ানা ইস্যু করা হয় তাকে তল্লাশি পরোয়ানা বলে।
ফৌঃ কাঃ বিঃ ৯৬, ৯৭ ধারা, পিআরবি ২৮০ বিধি।
২১। জব্দ তালিকা (Seizure List):
ফৌঃ কাঃ বিঃ ১০২, ১০৩, ১৬৫, ১৬৬ ধারা, পিআরবি ২৮০ বিধি।
জব্দ তালিকা’কে ইংরেজিতে Seizure Listt বলা হয়। কার্যবিধি ১০৩ (২) যারা, পিআরবি ২৮০,৪৬৫ বিধি মোতাবেক তল্লাশিকালে অবৈধ মালামাল উদ্ধার হলে বা সন্দেহজনক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে অবৈধ মালামাল পাওয়া গেলে বা চোরাইমাল, জাল দলিল প্রভৃতি উদ্ধার করা হলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উক্ত মালামালের যে তালিকা প্রবস্তুত করা হয় তাকে জব্দ তালিকা বলে। জব্দ তালিকা বিপি ফরম নং-৪৪, বাংলাদেশ ফরম নং-৫২৭৬ তে লিপিবদ্ধ করে সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিতে হয়। সাক্ষ্য আইনের ৯, ৩৫ ধারা মোতাবেক সরকারি দলিল হিসেবে জব্দ তালিকা আদালতে প্রাসঙ্গিক। ফৌঃ কাঃ বিঃ ১০৩(২) ধারা, পিআরবি ২৮০ বিধি।
২২। জামিনযোগ্য অপরাধ (Bailable offence)
ফৌজদারী কার্যবিধি ৪-১ (খ) ধারা মোতাবেক জামিনযোগ্য অপরাধ বলতে সে সকল অপরাধকে বুঝায় যা, অত্র আইনের দ্বিতীয় তফসিলে বা বর্তমানে বলবৎ কোন আইনে জামিনযোগ্য দেখানো হয়েছে। আইনের পরিভাষায় যে অপরাধ গুলি করলে অপরাধীর জন্য দেশের প্রচলিত আইনে জামিনের ব্যবস্থা আছে সে অপরাধ গুলিকে জামিনযোগ্য অপরাধ বলে। ফৌঃ কাঃ বিঃ ৪-১ (খ) ধারা।
২৩। জামিনের অযোগ্য অপরাধ (Non-Bailable offence):
ফৌজদারী কার্যবিধি ৪-১ (খ) ধারা মোতাবেক জামিনের অযোগ্য অপরাধ বলতে সে সকল অপরাধকে বুঝায় যা অত্র আইনের দ্বিতীয় তফসিলে বা বর্তমানে বলবৎ কোন আইন দ্বারা জামিনের অযোগ্য দেখানো হয়েছে। আইনের পরিভাষায় যে অপরাধ গুলি করলে অপরাধীর জন্য দেশের প্রচলিত আইনে জামিনের ব্যবস্থা নাই সে অপরাধ গুলিকে জামিনের অযোগ্য অপরাধ বলে। ফৌঃ কাঃ বিঃ ৪-১(খ) ধারা।
২৪। অভিযোগ (Charge):
ফৌজদারী কার্যবিধিতে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয় নাই। তবে ফৌজদারী কার্যবিধি ৪-১ (গ) ধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচারকের নিকট সুবিচার পাওয়ার আশায় লিখিত বা মৌখিকভাবে কোন নালিশ করার পর উক্ত অভিযুক্তের বিরূদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালত যে Charge গঠন করেন তাকে অভিযোগ বলে। ফৌঃ কাঃ বিঃ ৪-১ (গ) ধারা।
২৫। নালিশ (Complaint):
ফৌজদারী কার্যবিধি ৪-১ (জ) ধারায় নালিশের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বর্ণিত ধারা মোতাবেক কোন ব্যক্তি অপর কোন আইন ভঙ্গকারী ব্যক্তির বিরূদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট সুবিচার পাওয়ার আশায় লিখিত বা মৌখিকভাবে যে অভিযোগ দায়ের করেন সেই অভিযোগকে নালিশ বলে। তবে নালিশ বলতে পুলিশ অফিসারের দাখিলকৃত রিপোর্টকে বুঝায় না। ফৌঃ কাঃ বিঃ ৪-১ (জ) ধারা।
২৬। আমলযোগ্য অপরাধ (Cognizable offence):
ফৌজদারী কার্যবিধি ৪-১ (চ) ধারা মোতাবেক যে অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীকে পুলিশ অফিসার বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারেন বা অত্র আইনের দ্বিতীয় তফসিলে যে অপরাধ গুলোকে আমলযোগ্য দেখানো হয়েছে সে অপরাধ গুলিকে আমলযোগ্য অপরাধ বা ধর্তব্য অপরাধ বলে। আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে কার্যবিধি ১৫৪ ধারা এবং পিআরবি ২৪৩ বিধি মোতাবেক এফআইআর লিপিবদ্ধ করতে হয় এবং এধরনের অপরাধের বিষয় আদালতের অনুমতি ব্যতীত কার্যবিধি ১৫৬ ধারা, পিআরবি ২৫৮ বিধি মোতাবেক তদন্ত করা যায়। ফৌঃ কাঃ বিঃ ৪-১ (চ) ধারা।
২৭। আমলের অযোগ্য অপরাধ (Non-Cognizable offence):
অফৗজদারী কার্যবিধি ৪-১ (ঢ) ধারা মোতাবেক যে অপরাধ গুলি করলে অপরাধীকে পুলিশ অফিসার বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে না বা অত্র আইনের দ্বিতীয় তফসিলে যে অপরাধ গুলো আমলের অযোগ্য দেখানো হয়েছে। সে অপরাধ গুলিকে আমলের অযোগ্য অপরাধ বা অধর্তব্য অপরাধ বলে। আমলের অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে
কার্যবিধি ১৫৫ ধারা, পিআরবি ৩৭৭ বিধি মোতাবেক জিডিতে এন্ট্রি করতে হয় এবং এধরনের অপরাধের বিষয় আদালতের অনুমতি ছাড়া তদন্ত করা যায় না।
ফৌঃ কাঃ বিঃ ৪-১ (৮) ধারা।
২৯। অনুসন্ধান (Inquiry):
অনুসন্ধান অর্থ খোঁজাখুঁজি করা। ফৌজদারী কার্যবিধি ৪-১ (ট) ধারা মোতাবেক কোন অপরাধের সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারকার্যের পূর্বে যে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় তাকে অনুসন্ধান বা Inquiry বলে। অনুসন্ধান বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরিচালিত হয়ে থাকে। ফৌঃ কাঃ বিঃ ৪-১ (ট) ধারা, পিআরবি
২৮০,৬১৩ বিধি।
৩০। তদন্ত (Investigation):
ফৌজদারী কার্যবিধি ৪-১ (ঠ) ধারা মোতাবেক কোন আলমযোগ্য অপরাধের সঠিক তথ্য উদঘাটনের জন্য
ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন পুলিশ অফিসার বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত সকল কার্যক্রমকে তদন্ত বলে। তদন্তের মাধ্যমে অপরাধের সঠিক তথ্য উদঘাটনসহ অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা যায়। তদন্ত কার্যবিধি ১৫৬ ধারা, পিআরবি ২৫৮ বিধি মোতাবেক পরিচালিত হয়ে থাকে।
৩১। পাবলিক প্রসিকিউটর
ফৌঃ কাঃ বিঃ ৪-১(ঠ) ধারা, পিআরবি ২৫৮ বিধি।
কার্যবিধি ৪৯২ ধারা মোতাবেক কোন মামলা পরিচালনার জন্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত যেকোন ব্যক্তি বা আইনজীবিকে পাবলিক পরিচালনার (পিপি) বলে। ফৌঃ কাঃ বিঃ ৪-১(ন) ধারা।।
৩২। ফরেনসিক বিজ্ঞানঃ
ফরেনসিক বিজ্ঞান হলো আইনি বিষয়ে বিজ্ঞানের প্রয়োগ। কোন মামলা তদন্তকালে প্রাপ্ত আলামতের উপর বিজ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ করা হয়। মামলার আলমতের উপর বিজ্ঞান ভিত্তিক এমন পর্যালোচনা করাকে ফরেনসিক বিজ্ঞান বলে। সাক্ষ্য আইন ৪৫ ধারা, পিআরবি ২৯৭ বিধি।
৩৩। জবানবন্দি (Examiation-in-chief):
১৮৭২ সালে প্রণীত সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বর্ণিত ধারা মোতাবেক যে পক্ষ সাক্ষীকে আদালতে হাজির করেন সেই পক্ষ যদি সাক্ষীকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করেন, তখন তাকে জবানবন্দি বলে। সাক্ষ্য আইন ১৩৭ ধারা।
৩৪। জেরা (Cross-xamination):
সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জেরা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বর্ণিত ধারা মোতাবেক যে পক্ষ সাক্ষীকে আদালতে হাজির করেন সেই পক্ষের জবানবন্দি গ্রহণের পর বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সেই সাক্ষীকে কোন প্রশ্ন করাকে জেরা বলে। সাক্ষ্য আইন ১৩৭ ধারা।
৩৫। পুনঃ জবানবন্দি (Re-Examination):
১৮৭২ সালে প্রণীত সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারা মোতাবেক সাক্ষীকে বিরোধী পক্ষ জেরা করার পর সাক্ষীকে হাজিরকারী পক্ষ পূনরায় কোন কিছু জিজ্ঞাসা করলে তাকে পুনঃজবানবন্দি বলে। সাক্ষ্য আইন ১৩৭ ধারা
৩৬। বৈরী সাক্ষী (Hostil Withness):
সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারা মোতাবেক যে পক্ষ সাক্ষীকে আদালতে হাজির করেছেন, সাক্ষী যদি সেই পক্ষের বিপক্ষে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন তাহলে সেই সাক্ষীকে বৈরী সাক্ষী বা শত্রু সাক্ষী বলে। সাক্ষ্য আইন ১৫৪ ধারা
৩৭। ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন/নির্দেশক প্রশ্ন (Leading Questions):
সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারা মোতাবেক যে প্রশ্নের মধ্যে প্রশ্নের উত্তর লুকায়িত থাকে বা উত্তরের ইঙ্গিত পাওয়া যায় সে প্রশ্নকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন (Leading Questions) বলে। সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি গ্রহণকালে সাক্ষীকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায় না তবে সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারা। মোতাবেক জেরা করার সময় সাক্ষীকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যায়। সাক্ষ্য আইন ১৪১ ধারা।
৩৮। পুলিশ সাব-কালচারঃ
প্রত্যেক জাতি বা গোষ্ঠির একটি স্বতন্ত্র সংস্কৃতি আছে। তারা তাদের সেই সংস্কৃতি লালন করে। তেমনি পুলিশ বাহিনীরও নিজস্ব কিছু সংস্কৃতি আছে। যেহেতু পুলিশ আইন শৃংখলা ও অপরাধ নিয়ে কাজ করে সেজন্য আইন শৃংখলা রক্ষা ও অপরাধ নিবারণ এবং নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে, তার কিছু নিজস্ব আইন, নিয়ম- নীতি অনুসরণ করতে হয়। এই সকল আইন ও নিয়ম নীতিই হলো পুলিশের সংস্কৃতি।
৩৯। গ্রাম আদালতঃ
ধারা- ১. এই আইন গ্রাম আদালত আইন নামে অভিহিত হবে। ইহা অবিলম্বে কার্যকর হবে। ইহা কেবল ইউনিয়নের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় প্রযোজ্য হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞাসমূহ:
ধারা ২- (ক) আমলযোগ্য অপরাধ অর্থ ফৌজধারী কার্যবিধিতে সংগায়িত ধর্তব্য অপরাধ।
(খ) ইউনিয়ন অর্থ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ২ এর দফা (৫) এ সংগায়িত
ইউনিয়ন। (গ) ইউনিয়ন পরিষদ অর্থ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ২ এর দফা (৬) এ
সংগায়িত ইউনিয়ন পরিষদ।
(ঘ) গ্রাম আদালত অর্থ ধারা ৫ এর অধীন গঠিত গ্রাম আদালত।
(ঙ) চেয়ারম্যান অর্থ গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান
(চ) পক্ষ অর্থে এমন কোন ব্যক্তি অন্তভুক্ত হবে, যার উপস্থিতি কোন বিবাদের সঠিক মীমাংসার জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়, এবং গ্রাম আদালত যাকে অনুরুপ বিবাদের একটি পক্ষ হিসাবে সংযুক্ত করে।
৪০। ওসিসিঃ
আর্থিক ব্যবস্থপনা (Finacial Managment) বলতে আর্থিক কর্মকান্ডের পরিকল্পনা সংগার নির্দেশনা এবং নিয়ন্ত্রনকে বুঝায় যেমন, প্রতিষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহ এবং সদ্যব্যবহার করা। এর জ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সম্পদ সমহে সাধারণ ব্যবস্থাপনার নীতি সমুহের প্রয়োগ। আর্থিক ব্যবস্থাপনা হজে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সমূহ অর্জনের উদ্দেশ্যে আর্থিক সম্পদ সমূহের পরিকল্পনা সংগঠন, নিয় এবং পর্যবেক্ষনের একটি প্রক্রিয়া।
৪২। মানিলন্ডারিংঃ
কোন ব্যক্তি কর্তৃক জ্ঞাতসত্ত্বে অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস, অর্থের নিয়ন্ত্রণ অবস্থান, মালিকানা গোপন করা বা মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটনাকারীকে রক্ষা করা, মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করা, বৈধ বা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ- সম্পদ নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচার বা হস্তান্তর করা বা বিদেশ থেকে দেশে আনয়ন করাকে মানিলন্ডারিং বলে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২ (ফ) ধারা।
৪৩। পারিবারিক সহিংসতা:
পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার পরিবারের কোনো নারী বা শিশুর উপর শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, মৌখিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, আর্থিক ক্ষতি, ব্যক্তি স্বাধিনতার হস্তক্ষেপ করলে তিনি পারিবারিক সহিংসতামূলক কাজ সংঘটন করেছে বলে গণ্য হবে। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা, ৩ ধারা।
৪৪। জব্দ তালিকা মামলার ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বস্তু চোরাইমাল সন্দিগ্ধ সম্পত্তি, বেওয়ারিশ সম্পত্তি বা পরোয়ানায় উল্লেখ আছে এমন সম্পত্তি উদ্ধার এবং আদালতে উপস্থাপনের জন্য তদন্তকারী অফিসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিপি ফরম নং-৪৪ বাংলাদেশ ফরম নম্বর ৫২৭৬ এর উপর সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিয়ে নিজে স্বাক্ষর করে যে, ৩ কপি তালিকা প্রস্তুত করেন তাকে Seizure List বা জব্দ তালিকা বলে। [ কার্যবিধি আইনের ১০৩ (২) উপধারা। পি. আর. বি-২৮০ বিধি।।
৪৫। মানবপাচার
মানব পাচার অর্থ কোন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ, প্রতারণা, কোন সামাজিক অসহায়ত্ব কাজে লাগিয়ে, অর্থ বা অন্য কোন সুবিধা লেনদেনপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে যৌন শোষন বা নিপীড়ন বা শ্রম শোষন বা অন্য কোন শোষন বা নিপীড়ন এর উদ্দেশ্যে বিক্রয়, ক্রয়, নির্বাসন বা স্থানান্তর করাকে বোঝায়। মানবপাচার আইন ৩ ধারা
৪৬। “বিস্ফোরক দ্রব্য”
(ক) গানপাউডার, নাইট্রো-গ্লিসারিন, ডিনামাইট, গান-কটন, ব্লাসটিং পাউডার, ফুঁসে উঠা (fulminate) পারদ বা অন্য কোন ধাতু, রঙ্গিন আগুন (colored fire) এবং বিস্ফোরণের মাধ্যমে কার্যকর প্রভাব, বা আতসবাজির প্রভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যবহৃত বা উৎপাদিত অন্য যে কোন দ্রব্য যাহা উপরি-উক্ত পদার্থসমূহের সদৃশ হউক বা না হউক; এবং
(খ) বিস্ফোরক সামগ্রী তৈরির যে কোন পদার্থ ও কোন বিস্ফোরক পদার্থের মাধ্যমে বা সহযোগে বিস্ফোরণ সৃষ্টি, বা ব্যবহারের অভিপ্রায়ে রূপান্তরিত করিবার, বা সহায়তার জন্য ব্যবহৃত, কোন যন্ত্র, হাতিয়ার, যন্ত্রপাতি বা বস্তুসহ অনুরূপ যন্ত্র, যন্ত্রপাতি বা হাতিয়ারের কোন অংশ এবং ফিউজ, রকেট, পারকাশন ক্যাপস, ডেটোনেটর, কাট্রিজ ও যে কোন ধরনের গোলাবারুদও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
বিস্ফোরক দ্রব্য-১৩-ক
৪৭। সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সং) ২০১৩ এর (১৪খ) সন্ত্রাসী সত্তা,
অর্থ তফসিল-২ এ উল্লিখিত কোন সত্তা বা এই আইনের ধারা ৬(১), ১০, ১১, ১২ বা ১৩ এর অধীন কোন অপরাধ
সংঘটন করে এইরূপ কোন সত্তা:
৪৮। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সং) ২০১৩ এর (১৪গ)৪ সন্ত্রাসী সম্পত্তি, অর্থ এইরূপ কোন সম্পত্তি যাহা-
(অ) এই আইনের অধীন কোন সন্ত্রাসী কার্য সংঘটন বা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের আইনের অধীন অনুরূপ সমশ্রেণীর অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হইয়াছে বা হইতেছে, বা হইবার অভিপ্রায় রহিয়াছে।
(আ) কোন সন্ত্রাসী কারে্যর সহিত সম্পৃক্ত। ই) কোন সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ( বা পরোক্ষভাবে উদ্ভূত বা অর্জিত;
(ঈ) সন্ত্রাসী কার্যের উদ্দেশ্যে অথবা কোন সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা সন্ত্রাসী সত্তাকে সমর্থনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করিবার অভিপ্রায়ে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যে কোন উপায়ে সংগৃহীত হইয়াছে।
(উ) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা সন্ত্রাসী সত্তার মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন এবং কোন সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা সন্ত্রাসী সত্তার পক্ষে বা নির্দেশনা অনুসারে কাজ করে এইরূপ ব্যক্তি বা সত্তার সম্পত্তিসহ অনুরূপ ব্যক্তি ও সহযোগী ব্যক্তি বা সত্তার মালিকানাধীন বা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণাফী তহবিল:
৪৯। সন্ত্রাসী সত্তা:
সন্ত্রাস বিরোধী ২০১৯ (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর ২ (১৪- খ) ধারা মোতাবেক সন্ত্রাসী সত্তা’ অর্থ তফসিল-২ এ উল্লিখিত কোনো সত্তা বা এই আইনের ধারা ৬(১), ১০, ১১, ১২ বা ১৩ এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করে এরূপ কোনো সত্তা।
৬(১) ধারা
৫০। সন্ত্রাসী কার্য
সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ৬(১) উপ-ধারা অনুযায়ী- যদি কোনো ব্যক্তি, সত্তা বা বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশের
অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য জনসাধারণ বা জনসাধারণের কোনো অংশের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার বা কোনো সত্তা বা কোনো ব্যক্তিকে কোনো কার্য করতে বা করা হতে বিরত রাখতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অন্য কোনো ব্যক্তিকে হত্যা, গুরুতর জখম, আটক বা অপহরণ করে বা করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। অথবা এর উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য, দাহ্য পদার্থ ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে বা নিজ দখলে রাখে; তাহলে উক্ত ব্যক্তি, সত্তা বা বিদেশি নাগরিক ‘সন্ত্রাসী কার্য” সংঘটনের অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।
৫১। নারি ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(চ)ঃ
নবজাতক শিশু- চল্লিশ দিন বয়সের বেশি নয় এরুপ শিশুকে নবজাতক শিশু বলা হয়।
নারীঃ-২(ছ) নারী অর্থ যে কোন বয়সের নারীকে বুঝায়। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২ (৯)
ধারা।
২(জ) মুক্তিপণ্ড- মুক্তিপণ অর্থ আর্থিক সুবিধা বা অন্য যে কোন প্রকার সুবিধাকে বুঝাবে। যৌতুকা- ২(ঞ) যৌতুক বলতে কোন বিবাহের বর বা কনে পক্ষ এবং বিবাহে সংশ্লিষ্ট যে কেউ বিবাহ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা।
যৌতুক নিরোধ আইনের ২(খ)
৫২। সম্পূরক অভিযোগপত্রঃ
অভিযোগপত্র দাখিলের পর পরবর্তীতে আরও সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহের কারণে পুনরায় দাখিলকৃত পুলিশ রিপোর্ট কে সম্পূরক অভিযোগপত্র বলে। সম্পূরক অভিযোগপত্র এক বা একাধিক হতে পারে। (৩৮ DLR ১২৪)। সম্পূরক অভিযোগপত্র তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক স্বয়ং কিংবা উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে দাখিল হতে পারে। কিন্তু এ
দায়িত্ব মূলত থানার অফিসার ইনচার্জের। যে ব্যক্তিকে অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়নি সেই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র
দাখিলের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন না (৩৫ DLR ৪২৫) সম্পূরক অভিযোগপত্র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করা যায়। কিন্তু সরাসরি দায়রা আদালতে দাখিল করা যায় না। (১৯৭৭ Cr.LJ২৩৬ Pat.)
৫৩। সম্পত্তি হস্তান্তরঃ
একজন জীবিত ব্যক্তি তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কোনো সম্পত্তি এক বা একাধিত জীবিত ব্যক্তিকে সম্পত্তি প্রদান করাকে সম্পত্তি হস্তান্তর বলে। উল্লেখ্য যে জীবিত ব্যক্তি বলতে কোম্পানী, সমিতি ও ব্যক্তি সমষ্টিকে বুঝাইবে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫ ধারা।
৫৪। কিশোর অপরাধ (Juvenile Delinquency): Juvenile অর্থ তরুণ আর Delinquency মানে কর্তব্য কাজে অবহেলা। কিশোর বলতে যার শৈশব পার হয়েছে। অর্থাৎ ১১ বছর হতে অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সের বালক দ্বারা সংঘটিত অপরাধকেই কিশোর অপরাধ বলে।
৫৫। ফরেনসিক বিজ্ঞান (Forensic Science):
চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখা আদালত বা বিচারকার্যে (Use in courts or Legal procecding) সহায়তা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে সে শাখাকে ফরেনসিক বলে। যেমন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। ফরেন্সিক শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘আদালত সম্বন্ধীয়’ বা ‘আদালতে বিচারকার্যে ব্যবহৃত’। বিজ্ঞান শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘বিশেষভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে লব্ধ জ্ঞান বা বিশেষ জ্ঞান’। ফরেন্সিক বিজ্ঞান বলতে বিজ্ঞা প্রমাণের ক্ষেত্রে তার যাবতীয় কার্যক্রম দিয়ে আদালতকে অপরাধের দায় নির্ধারণে কারণে ফরেন্সিক বিজ্ঞানকে বিচারিক বিজ্ঞানও বল্য হয়ে থাকে।
৫৬। M/E (সাক্ষ্যের স্মারকলিপি):
তদন্তকারী পুলিশ অফিসার আমলযোগ্য অপরাধের মামলার তদন্ত শেষে ১৭৩ ধারায় পুলিশ রিপোর্ট কোর্ট অফিসার এর নিকট দাখিল করবার সময় চূড়ান্ত কেস ডায়েরির সাথে আমলযোগ্য অপরাধের মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপরো এব এভিডেন্স বা সাক্ষ্যের স্মারকলিপি বলা হয়। এর একটি অনুলিপি পুলিশ সুপারের নিকট প্রেরণ করতে হয়। সাধারণত খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, অপহরণ, রাজনৈতিক মামলা, চোরাচালান, অসূত্র আইনের অধীন ?
মন্তব্য করুন