বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: কসবা থানা পুলিশের সাম্প্রতিক ও নীরবতার পিছনে রয়েছে ভয়ংকর ও থলির বিড়ালমাদকবিরোধী তৎপরতা আলোচনায়, ঠিক তখনই বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। লোক দেখানো ধরপাকড় চললেও আড়ালে রয়ে গেছে সীমান্তের আসল ‘গডফাদার’রা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক চোরাকারবারিদের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কসবা সীমান্ত বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছে বাদশা জুয়েল ও সারোয়ার সিন্ডিকেট।
আর এই বিশাল সিন্ডিকেটের নেপথ্যে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে -এর বিরুদ্ধে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এই ‘গডফাদার’রা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত কসবার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের যে গোপন তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তাতে বাদশা জুয়েল ও সারোয়ার হোসেনের
স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে তাদের নাম থাকা সত্ত্বেও সীমান্তের এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সরকারি তালিকায় নাম থাকা এসব ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে বিজিবির কিছু অসাধু সদস্যের সাথে ‘পারস্পরিক সমঝোতা’র মাধ্যমে নিরাপদ রুট তৈরি করেছে।
বাদশা জুয়েল ও সারোয়ার সিন্ডিকেটের অপারেশন
বাদশা জুয়েল ও সারোয়ারের এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটটি মূলত কসবার সীমান্ত এলাকাকে মাদক ও অবৈধ পণ্যের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য এবং প্রতিবেদকের হাতে আসা অডিও রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা যায়:
ডিজিটাল কন্ট্রোল: বাদশা জুয়েল নিজে সশরীরে সীমান্তে না গিয়েও ডিজিটাল ডিভাইস walki টকি এর মাধ্যমে প্রতিটি চালান নিয়ন্ত্রণ করেন। বিজিবির টহলের সময় এবং রুট পরিবর্তনের নির্দেশনা দেন তিনি নিজেই।
সারোয়ারের আলমের ভূমিকা: মাদক ও চোরাচালানের পণ্যগুলো ওপার থেকে এপারে আনার পর নিরাপদ স্থানে গুদামজাত করার দায়িত্ব পালন করেন সারোয়ার। তার মাধ্যমেই সিন্ডিকেটের অর্থ লেনদেন ও বণ্টন করা হয়।সে অনন্তপুর গ্রামে রবিন চেয়ারম্যান এর সহযোগিতায় এই মাল চৌধুরী মার্কেটের মাঠে প্রকাশ্যে লোড করে ।
বিজিবি-কারবারি যোগসাজশ: বিজিবির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও জওয়ানের সহায়তায় প্রতি রাতে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় মাদক, মোবাইল ডিসপ্লে এবং শাড়ি-কাপড় কসবার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে।
বিএনপি উচ্চপর্যায়ের ‘পলিটিক্যাল শিল্ড’ অভিযোগ রয়েছে, বাদশা জুয়েল ও সারোয়ারের এই সিন্ডিকেটের সহকারী পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করছেন
বাংলাদেশের বৃহত্তম দল বিএনপির শিশু পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়া
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় নাম থাকা এই অবৈধ জনপ্রতিনিধির ক্ষমতার
দাপটে স্থানীয়রা মুখ খুলতে ভয় পায়। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে প্রশাসন বা সীমান্তরক্ষী বাহিনী অনেক সময় এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধাবোধ করে। মূলত বাদশা জুয়েল এর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেই সিন্ডিকেটটি বিজিবির সাথে গোপন লিয়াজোঁ বজায় রাখে।
সিন্ডিকেটের প্রধান সদস্যদের তালিকা
অনুসন্ধানে এই চক্রের আরও ১৫-২০ জন সক্রিয় সদস্যের নাম পাওয়া গেছে, যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে:
১. লায়ন শাকিল: ব্রাহ্মণবাড়িয়া অস্ত্র ও পনি পরিবহনের প্রধান সমন্বয়ক।
২. হৃদয়: ওপার থেকে পণ্য রিসিভ করার পর দেশের ভিন্ন পয়েন্টে পৌঁছানোর মূল কারিগর।
3. অনন্তপুর ও আদ্রা গ্রামের সশস্ত্র গ্রুপ: এই গ্রুপের ১০-১৫ জন সদস্য রাতের আঁধারে পাহারাদার হিসেবে কাজ করে।
প্রশংসিত পুলিশ বনাম প্রশ্নবিদ্ধ বিজিবি
কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনীন আক্তারের নেতৃত্বে ১২৫ কেজি গাঁজা জব্দের ঘটনাটি প্রশংসনীয় হলেও, তা যেন একটি বিশাল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন—বিজিবির প্রহরা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রতিদিন এই সিন্ডিকেট কোটি টাকার পণ্য আনছে? স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজিবির ‘ম্যানেজ’ সংস্কৃতি না থাকলে বাদশা জুয়েল বা সারোয়ারের পক্ষে সীমান্তে এক পা রাখাও সম্ভব হতো না।
তালাশ ক্রাইম দৃষ্টির নোট
রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় নাম থাকার পরও রনি চেয়ারম্যান, বাদশা জুয়েল কিংবা সারওয়ার আলমের এই সিন্ডিকেট কীভাবে তারা সীমান্ত শাসন করছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কসবা তথা সারা দেশের যুবসমাজকে মাদকের মরণছোবল থেকে বাঁচাতে এবং জাতীয় অর্থনীতি পাঁচার রোধ করতে সীমান্ত রক্ষায় সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মন্তব্য করুন