নিজস্ব প্রতিবেদক দ্বীন ইসলাম
সমালোচনার তিরবিদ্ধ করছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এই খাতকে। যে সাংবাদিকদের বলা হয় জাতির বিবেক, তাদের বিবেক নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। যে গণমাধ্যমকর্মীরা রাষ্ট্রের নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের অন্যায় ও অনিয়ম অনুসন্ধান করে বের করে আনেন, তাদের কর্মকাণ্ডই এখন প্রশ্নের মুখে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলে মনে হবে, রাষ্ট্রের সব অংশের মানুষই বুঝি এখন সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ। আসলে কি তাই? সাংবাদিকরা কি সবার প্রতিপক্ষ?
ঘটনার সূত্রপাত দেশের একটি বড় সীমান্ত এলাকার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ও স্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলা
আমাদের চারপাশে সাংবাদিকতার আড়ালে করা হয় চাটুকারিতা পাঁচশ এক হাজার টাকা পান ওমানে সরাসরি বাসায় দালালি করার পর আমাদের আশেপাশে এমনও কিছু সংবাদ কর্মী আছেন যার নিজের দক্ষ তাই ও পারেন না এ সকল অপকর্ম তুলে আনতে ও অপর একজন সংবাদকর্মী তুলে আনার পর তাকে নিয়ে সমাচালনা করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন তেমনি কিছু সংবাদকর্মী আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা
উপজেলাতে নিজেদেরকে দাবি করেন বিশাল বড় নাপের ও সাংবাদিক সাংবাদিকতার পেশায় আসার পর রাজনৈতিক নেতার ও প্রশাসনের চাটুকারিতা ছাড়া এমনকি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে আপনাকে দিয়ে
ও পারলে দেখান তো ও পারেন শুধু এগুলাই হয়েছে ১০০০ ও ২০০০ টাকার
বিনিময়ে আপনি শুনলেন আপনার এলাকায় নতুন একটি রেস্তোরাঁ হয়েছে, যেখানে সুস্বাদু বিদেশি খাবার পাওয়া যায়। চারিদিকে তার প্রশংসা শোনা যাচ্ছে। আপনি উৎসাহ নিয়ে সেটি খেতে গেলেন। খেলেনও। কিন্তু কেন যেন তা আপনার মন ভরলো না।এগুলো সংবাদ নই ও এগুলো বিনোদন এ বিনোদন দিয়েই দাবি করেন সাংবাদিক ও নিজেকে কারা সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ বা শত্রু ভাবে? উত্তর সহজ, যারা নিজেদের অন্যায় আড়াল করতে চায়, যারা অপরাধী- তারাই সাংবাদিককে ভয় পায় বা প্রতিপক্ষ ভাবে। কারণ একজন সরকারি কর্মকর্তা, একজন পুলিশ, একজন ঠিকাদার, একজন অন্য যেকোনো পেশার মানুষ যখন অন্যায় করেন, সেই অন্যায়টি একজন অন্য পেশার মানুষ দেখে ফেললে বা জেনে গেলে সেটি যত না ঝুঁকি তৈরি করে, একজন সৎ সাংবাদিক জেনে গেলে সেই ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যায়। কারণ একজন সৎ সাংবাদিককে টাকা দিয়ে কেনা যায় না। ফলে তিনি অন্যায়টি প্রকাশ ও প্রচার করবেন। অপরাধীদের ভয় এখানেই।
এটা ওপেন সিক্রেট যে, পুলিশ বা অন্য যেকোনো পেশার অসৎ লোকেরা সাংবাদিক ছাড়া কাউকেই ভয় পায় না বা তোয়াজ করে না। ফলে সুযোগ পেলেই তারা সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয়। ক্ষমতাবানরা জানে, তাদের অন্যায় কাজগুলো দেশের মানুষ শুধু এই সাংবাদিকদের কারণেই জানতে পারে। না হলে দেশ বহু আগেই লুটপাট করে খেয়ে ফেলত তারা। কিন্তু যেহেতু তারা এই অবাধ লুটপাট করতে পারে না শুধু গণমাধ্যমের ভয়ে, তাই গণমাধ্যমই তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ; শত্রু।
নির্মম বাস্তবতা হলো, একজন রাজনৈতিক নেতা যখন বিপদে পড়েন, তিনি প্রথম ফোনটা করেন তার ঘনিষ্ঠ কোনো সাংবাদিককে। একজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী- প্রত্যেকেই বিপদে পড়লে প্রথম ফোনটা সাংবাদিককে করেন। তাদের ধারণা বা বিশ্বাস, সাংবাদিকরা তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে না পারলেও অন্তত উদ্ধারের পথ বাতলে দেবেন। অথচ এই লোকগুলোই সুযোগ পেলে সকাল-সন্ধ্যায় সাংবাদিকের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করেন। কিন্তু সাংবাদিক যখন রাস্তায় মার খান, সাংবাদিককে যখন রাজনৈতিক দলের ক্যাডাররা পেটায়, সাংবাদিককে যখন পুলিশ পেটায়, সাংবাদিককে যখন আন্দোলনকারী এবং আন্দোলনবিরোধীরা পেটায়—তখন সাংবাদিক কাকে ফোন করবে? সাংবাদিক কার কাছে বিচার চাইবে?
মুদ্রার অন্যপিঠও আছে। সাংবাদিকতার নামে ব্ল্যাকমেইলিং, চাঁদাবাজি, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হওয়া, করপোরেট স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, ভুইফোঁড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল, আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা, কথিত অনলাইন টিভি ইত্যাদি প্লাটফর্ম ব্যবহার করে সাংবাদিকতার নামে নানারকম ধান্দাবাজির কারণে পুরো গণমাধ্যমই এখন প্রশ্নের মুখে। যে কারণে যখনই গণমাধ্যমের নেতিবাচক কোনো খবর গণমাধ্যমে আসে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যায়, মানুষের রাগ-ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। যে গণমাধ্যম তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ, সেবের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু হয়। অনেকে সাংবাদিকদের প্রতি অতীতের কোনো ঘটনায় ক্ষুব্ধ বা ঈর্ষান্বিত থাকলে তিনিও সেই বিষোদ্গার ও গালাগালির মিছিলে শামিল হন।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম কতটুকু স্বাধীন ও নিরপেক্ষ, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এ কথা বোধ হয় কেউই অস্বীকার করবেন না যে, এই সীমিত স্বাধীনতা ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গণমাধ্যমই দেশকে টিকিয়ে রেখেছে। কারণ চারপাশে এত বেশি খারাপ লোকের আধিপত্য যে, তারা কেবল ক্যামেরাগুলোকেই ভয় পায়। না হলে বহু আগেই সবকিছু পেটের ভেতরে নিয়ে যেত। যেহেতু সবকিছু পেটের ভেতরে নিয়ে হজম করার পথে প্রধান অন্তরায় গণমাধ্যম, অতএব তারাই শত্রু, তারাই প্রতিপক্ষ।
রাষ্ট্রও জানে তার সব কার্যক্রমে নজর রাখে গণমাধ্যম। ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের মতো গণমাধ্যমকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে বা মামলা দিয়ে শায়েস্তা করা না গেলেও রাষ্ট্র এমন পরিস্থিতি তৈরি করে রাখতে চায়, যাতে গণমাধ্যম নিজেই নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে পড়ে এবং সেই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করতে গিয়ে অন্যদিকে নজর দেয়ার সুযোগ না পায়।
মন্তব্য করুন